Skip to main content

হিন্দু ঐতিহ্য · দেবদেবী ও তাঁদের বিভিন্ন রূপ

মনসা দেবী

নাম ও সম্পর্কিত শব্দ: মনসা · মা মনসা · মনসা মাতা

মনসাमनसाমনসাମନସା

বাংলা ও অসম

মনসার পরিচয় জানতে তিনটি ভিন্ন সূত্র ধরে এগোনো যায়: সাপের ফণায় ছাওয়া একটি পুরোনো ধাতব মূর্তি, বাংলার বেহুলা-লখিন্দরের আখ্যান এবং অসমের একটি জীবন্ত উৎসব। এই সূত্রগুলি মিলিয়ে সর্পদেবীর এমন এক পরিচয় ফুটে ওঠে, যাকে নিছক সাপের অলংকারমূলক নকশায় সীমাবদ্ধ করা যায় না।

পড়তে প্রায় 4 মিনিট

ধাতুতে গড়া এক পুরোনো প্রতিমা

মেট্রোপলিটন মিউজিয়ামে একাদশ শতকের একটি মনসামূর্তি রয়েছে, যার উৎস হিসেবে বাংলা বা বর্তমান বাংলাদেশের কথা বলা হয়েছে। তামার পাত উঁচু করে ও খোদাই করে মূর্তিটি তৈরি; তাতে সোনার প্রলেপের চিহ্নও আছে। জাদুঘরের বিবরণে সাত ফণাযুক্ত সাপের ছত্র, দেবীর বাঁ হাতে ধরা সাপ এবং ডান হাতের বরদানের ভঙ্গি চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই তথ্য একটি নির্দিষ্ট, বিস্তারিতভাবে নথিবদ্ধ শিল্পবস্তুর পরিচয় দেয়। তার উপাদান ও সময়কাল দেখে এই মূর্তিশিল্পের ঐতিহ্য কত পুরোনো, তা বোঝা যায়। তবে তা থেকে বলা যায় না যে প্রতি ঘরেই ধাতব প্রতিমা ছিল, কিংবা আজকের একটি মুদ্রায় ওই মূর্তির প্রতিটি বৈশিষ্ট্য নকল করতে হবে।

তথ্যসূত্র: The Metropolitan Museum of Art: Manasa, the Snake Goddess

বাংলার আখ্যানে মনসা

বাংলাপিডিয়া মনসাকে বাংলা মঙ্গলকাব্যে বন্দিত দেবদেবীদের মধ্যে স্থান দিয়েছে। মনসামঙ্গলের বিবরণে দেবী ও শিবভক্ত বণিক চাঁদ সওদাগরের বিরোধ মুখ্য। চাঁদ তাঁকে দেবী হিসেবে মেনে নিতে চান না। এই আখ্যানের কেন্দ্রে আছে দেবীর স্বীকৃতিলাভের প্রশ্ন এবং সেই দ্বন্দ্বে আশপাশের মানুষকে কতটা মূল্য দিতে হয়।

এখানে সাহিত্যের প্রেক্ষাপটটি মনে রাখা জরুরি। এগুলি শক্তিশালী চরিত্র ও নৈতিক টানাপোড়েনে ভরা আখ্যান; এমন কোনও জেলার ইতিবৃত্ত নয়, যার প্রতিটি যাত্রা ও সাক্ষাতের সঙ্গে আধুনিক তারিখ মিলিয়ে দেওয়া যায়। কাহিনি বলার সময় কোন পাঠ অনুসরণ করা হচ্ছে, তা জানানো ভালো। একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণে গোটা ঐতিহ্য ধরা পড়ে না।

তথ্যসূত্র: Banglapedia: Mangalkavya

বেহুলার যাত্রা

বাংলাপিডিয়ার বিবরণে বেহুলার বিয়ে হয় চাঁদ সওদাগরের পুত্র লখিন্দরের সঙ্গে। বাসররাতে সাপের কামড়ে লখিন্দরের মৃত্যু হলে বেহুলা তাঁর দেহ নিয়ে ভেলায় ভেসে যাত্রা করেন। বহু কষ্টের পথ পেরিয়ে দেবতাদের কাছে তাঁর আবেদন শেষ পর্যন্ত লখিন্দরের জীবন ফিরিয়ে আনে এবং চাঁদ মনসার পূজায় সম্মত হন।

বেহুলার অটল সংকল্প আখ্যানটিকে মানুষের খুব কাছে নিয়ে আসে। পাঠক শুধু ক্ষমতাশালী চরিত্রদের দ্বন্দ্ব দেখেন না; শোক ও চাপের মধ্যেও এগিয়ে চলা একজন মানুষকে অনুসরণ করেন। সাহিত্যে তাঁর এই সাহসের কথা বলা যায়, কিন্তু তা দিয়ে প্রত্যেক স্ত্রীর জীবন কেমন হওয়া উচিত, সেই বিধান দেওয়া যায় না। কোনও আধুনিক রোগের পরিণতি সম্পর্কেও এই কাহিনি নিশ্চয়তা দেয় না।

তথ্যসূত্র: Banglapedia: Behula

অসমে চলমান এক উৎসবের সূত্র

অসম পর্যটন বিভাগের বিবরণে গুয়াহাটির কামাখ্যায় দেওধনি নৃত্য উৎসবকে মনসার উদ্দেশে আয়োজিত উৎসব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের উৎসব নির্দেশিকায় সময় হিসেবে আগস্ট মাসের উল্লেখ আছে। উপরে আলোচিত বাংলার শিল্প ও সাহিত্যের পাশাপাশি এটি অসমের একটি নির্দিষ্ট সূত্র দেয়।

কোনও দেবীর উপাসক বলে নানা সম্প্রদায়ের নাম প্রমাণ ছাড়া সাজিয়ে দেওয়ার চেয়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানের বিবরণ আঞ্চলিক বিস্তার বুঝতে বেশি সাহায্য করে। উৎসবটি, তার অংশগ্রহণকারী এবং বর্তমান আয়োজন সম্পর্কে আয়োজকদের কাছ থেকেই জানা উচিত। একটি উৎসবের তালিকা থেকে সব জায়গার রীতি এক বলে ধরে নেওয়া যায় না।

তথ্যসূত্র: Assam Tourism: August festivals and Deodhani

নির্দিষ্ট স্মৃতি, নির্দিষ্ট সূত্র

পারিবারিক উপহারের কথা ভাবলে এমন একটি যোগসূত্র দিয়ে শুরু করুন, যা প্রাপক চিনবেন। তা হতে পারে ঘরে শোনা বেহুলার কাহিনি, একসঙ্গে দেখা কোনও উৎসব কিংবা বাড়িতে রাখা একটি ছবি। প্রতিটি সূত্র আলাদা নকশার দিকে নিয়ে যেতে পারে; কোনওটিকেই মনসার সব উপাসনাধারার প্রতিনিধি হতে হবে না।

নকশার নির্দেশনার সঙ্গে সেই সূত্রটিও দিন। এতে শিল্পী গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলি অক্ষুণ্ণ রাখতে পারেন, আর প্রাপকও তৈরি বস্তুটির অর্থ বুঝতে পারেন। কেন এটি বেছে নিয়েছেন, তার ছোট্ট একটি ব্যক্তিগত কথা যোগ করা যায়। ওজন ও প্যাকেজিং তখন পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী ঠিক করতে পারবেন।

প্রশ্ন

এখানে বর্ণিত পুরোনো মনসামূর্তির চেনার বৈশিষ্ট্য কী?
মেট-এর একাদশ শতকের তামার পাতের শিল্পবস্তুর বিবরণে সাপের ফণার ছত্র এবং দেবীর হাতে ধরা সাপের উল্লেখ আছে। এটি নথিবদ্ধ একটি রূপ; সব প্রতিমার জন্য বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়।
মনসার কাহিনিতে বেহুলা কে?
তিনি মনসামঙ্গলের অন্যতম প্রধান চরিত্র। এখানে আলোচিত আখ্যানে লখিন্দরের মৃত্যুর পরে তাঁর যাত্রার ফলে লখিন্দর জীবন ফিরে পান এবং চাঁদ সওদাগর মনসার পূজা মেনে নেন।
কোনও পরিবারের নিজস্ব মনসা-ঐতিহ্য কি মুদ্রার নকশায় ফুটিয়ে তোলা যায়?
চিহ্নিত কোনও ছবি বা সূত্র এবং ব্যক্তিগত উৎসর্গের ভিত্তিতে নকশার অনুরোধ করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট স্থান বা ছবিটি জানান, যাতে অনুমান না করে তার খুঁটিনাটি যাচাই করা যায়।

তথ্যসূত্র ও আরও পড়ার জন্য