হিন্দু ঐতিহ্য · দেবদেবী ও তাঁদের বিভিন্ন রূপ
জগদ্ধাত্রী
নাম ও সম্পর্কিত শব্দ: জগধাত্রী · মা জগদ্ধাত্রী · জগদ্ধাত্রী দেবী
জগদ্ধাত্রীजगद्धात्रीଜଗଦ୍ଧାତ୍ରୀ
চন্দননগর ও বাংলা
জগৎকে ধারণ করেন যে দেবী, সিংহ ও হাতির বিন্যাসে তাঁর এক স্বতন্ত্র পরিচয় ফুটে ওঠে। বাংলায় জগদ্ধাত্রীর প্রতিমা শরৎকালের উপাসনার সঙ্গে মৃৎশিল্পী, শোলাশিল্পী, চিত্রকর ও ছাপাইশিল্পীদের কাজকে জুড়ে দেয়। এই নানা রূপের দিকে তাকালে এমন এক পরম্পরার দেখা মেলে, যেখানে ভক্তি আর দৃশ্যশিল্প নিবিড়ভাবে মিশে আছে।
পড়তে প্রায় 4 মিনিট
জগৎধারিণী দেবী
মেট্রোপলিটন মিউজিয়ামের ব্যাখ্যায় জগদ্ধাত্রীর নামের সঙ্গে জগৎকে ধারণ করার ভাবটি জড়িত; তাঁকে দুর্গার একটি রূপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রামকৃষ্ণ মঠের প্রকাশিত প্রার্থনায় করুণা ও দুঃখমোচনের ভাব প্রাধান্য পায়। দেবীর সান্নিধ্য ও রক্ষাকারী ভূমিকা ভক্তিপরম্পরায় এভাবেই প্রকাশিত হয়।
পশুদের নাটকীয় বিন্যাসের পাশে এই স্নিগ্ধ ভাবটিরও গুরুত্ব আছে। ধর্মীয় প্রতিমা শক্তি প্রকাশ করতে পারে, কিন্তু সেই শক্তিই দেবীর পরিচয়ের সবটুকু নয়। পাঠক এখানে প্রার্থনায় সম্বোধিত মায়ের দেখা পান, আবার বাংলার শিল্পে পরিচিত এক দেবীরূপের সঙ্গেও পরিচিত হন।
তথ্যসূত্র: The Metropolitan Museum of Art: Kali and Jagaddhatri, Sri Hemchandra DasRamakrishna Math: Prayer to Sri Sri Ma Jagaddhatri
সিংহ, হাতি ও চার হাত
ফিলাডেলফিয়া মিউজিয়াম অব আর্টের আনুমানিক 1875–1880 সালের একটি কালীঘাটের পটে জগদ্ধাত্রীকে সিংহের উপরে দেখা যায়; নিচে রয়েছে হস্তীরূপী করীন্দ্রাসুর। সংগ্রহশালার বর্ণনায় দেবীর চার হাত এবং ধনুক, বাণ, চক্র ও শঙ্খের উল্লেখ আছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলি সাধারণ দশভুজা দুর্গার বিন্যাস থেকে ছবিটিকে আলাদা করে চিনতে সাহায্য করে।
সংগ্রহশালা ছবির নিচে একটি রেখার ছকও লক্ষ করেছে, যা সম্ভবত বিন্যাস ঠিক করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। এই ছোট্ট তথ্যটি শিল্পীর কাজের পদ্ধতির আভাস দেয়। ভক্তির ছবি একই সঙ্গে শিল্পীর হাতে তৈরি একটি বস্তু—যেখানে ভারসাম্য, অনুপাত এবং প্রতিটি অবয়বের চারপাশের জায়গা ভেবে সাজাতে হয়।
তথ্যসূত্র: Philadelphia Museum of Art: Jagaddhatri and Karindrasura
চন্দননগর: উৎসব গড়ে ওঠার গল্প
উৎসব পোর্টালে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের বিবরণ অনুযায়ী, চন্দননগরে দুর্গাপুজোর শেষ পর্ব থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়। কাঠের কাঠামোয় খড় বাঁধার পর একাধিক স্তরে মাটি পড়ে; তারপরে রং ও চক্ষুদান। প্রতিমার মুকুট এবং পিছনের চালচিত্রে থাকে শোলার সূক্ষ্ম কাজ।
ওই বিবরণে বাংলা কার্তিক মাসে কয়েক দিন ধরে পুজো পালনের কথা আছে। পৃষ্ঠাটিতে অতীতের একটি উৎসবের তথ্য দেওয়া হয়েছে, তাই সেখানে ছাপা তারিখকে বর্তমান ভ্রমণসূচি ধরে নেওয়া উচিত নয়। তবে প্রতিমা তৈরির বিবরণটি এখনও মূল্যবান: নানা ধরনের দক্ষ হাতের কাজে উৎসবের রূপ ধীরে ধীরে ফুটে ওঠে।
পটচিত্র থেকে বটতলার ছাপা
মেটের সংগ্রহে আরেকটি উদাহরণ রয়েছে—শ্রী হেমচন্দ্র দাসের নামে নথিভুক্ত কালী ও জগদ্ধাত্রীর একটি ছাপাচিত্র, যার সময়কাল আনুমানিক 1850–1870। একই কাগজে দুটি ধাতব পাত থেকে ছাপ নেওয়া হয়েছিল। সংগ্রহশালা একে কলকাতার বটতলার ছাপাই-পরম্পরার অংশ হিসেবে দেখেছে; যে পাড়ায় ছাপাখানাগুলি গড়ে উঠেছিল, তার নামেই এই পরিচয়।
এই কাজে কালী ও জগদ্ধাত্রী আলাদা খিলানঘেরা পরিসরে রয়েছেন। পাশাপাশি দেখা গেলেই তাঁদের রূপকে এক বলে ধরে নিতে হয় না। বরং দেবীর পৃথক রূপগুলি তুলনা করে দেখা যায়, আর বোঝা যায় কীভাবে ছাপাইশিল্প ভক্তির ছবিকে মাটির প্রতিমা বা হাতে আঁকা পটের চেয়ে আলাদা মাধ্যম দিয়েছিল।
তথ্যসূত্র: The Metropolitan Museum of Art: Kali and Jagaddhatri, Sri Hemchandra Das
নিজের পুজোর স্মৃতি
উৎসবের স্মৃতি থেকে স্মারকের ভাবনা এলে, সেই স্মৃতিটিকে নির্দিষ্ট করে তুলুন। যে বছর পরিবার আবার চন্দননগরে ফিরেছিল, পুরনো প্রতিবেশীদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল, কিংবা কেউ শিশুকে দেবী চিনতে শিখিয়েছিলেন—এমন কোনও মুহূর্ত হতে পারে তার শুরু। একটি স্থান ও তারিখ গল্পটিকে স্পষ্ট করে; তার জন্য সব বাঙালি পরিবারের হয়ে কোনও দাবি করতে হয় না।
স্পষ্টভাবে চিহ্নিত একটি রূপ থেকে মৌলিক নকশার ভাবনা আসতে পারে; আর সঙ্গের লেখায় থাকবে আপনার নিজের যোগসূত্র। প্রতিমার মর্যাদা বজায় রাখুন, বাংলা বানান মিলিয়ে নিন এবং ব্যবহৃত বিশদ সূত্রের যথাযথ উল্লেখ করুন। তৈরি বস্তুটি যেন কোনও প্রতিষ্ঠানের সিলমোহর নকল না করে আপনার ব্যক্তিগত গল্প বলে।
প্রশ্ন
- নকশায় জগদ্ধাত্রীকে কীভাবে চেনা যায়?
- এখানে আলোচিত কালীঘাটের রূপে চার হাতের দেবী সিংহের উপর, আর সিংহের নিচে হাতি রয়েছে। সাধারণ দুর্গার ছবি বসিয়ে দেওয়ার বদলে নির্দিষ্ট একটি সূত্র অনুসরণ করুন।
- চন্দননগরের উৎসবে শোলার ভূমিকা কী?
- পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের বিবরণে পুজোর প্রতিমার মুকুট ও চালচিত্রে শোলার খোদাই করা সাজের উল্লেখ আছে।
- জগদ্ধাত্রীর স্মারকে বাংলা নিবেদনলিপি দেওয়া যাবে?
- হ্যাঁ। কী লিখতে চান এবং উপলক্ষটির সঙ্গে তার সম্পর্ক কী, তা জানান। নকশার সঙ্গে বানান ও পাঠযোগ্যতাও মিলিয়ে দেখা যাবে।